PRIME INSURANCE COMPANY LIMITED
Career Contact Us Newsletter Enquiry
 
   

News & Event Details

 
 
 
   তিন বছর বিরতির পর বীমা খাতে ফ্রেশার হিসেবে শুরু করেছিলাম    
     
   
  News Date: 7/22/2018  
 

মোহাম্মদী খানম


এমডি সিইও


প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড


১৯৮৮সালে পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে শিক্ষানবিশ নির্বাহী হিসেবে বীমা খাতেকর্মজীবন শুরু করেন মোহাম্মদী খানম। ২০১১ সালে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতেঅতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেয়ার আগে তিনি গ্রীন ডেল্টাইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের মার্চেপ্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আজীবন সদস্য। বীমা নিয়ন্ত্রকআইডিআরএর সেন্ট্রাল রেটিং কমিটির (সিআরসি) সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।ডিপ্লোমা করেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি থেকে সাধারণ বীমার ওপর। তিন দশকেরক্যারিয়ারে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা ও সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। বণিকবার্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় সম্প্রতি দেশে সাধারণ বীমা খাতের নানা দিক তুলে ধরারপাশাপাশি কথা বলেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান নিয়েও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনুপ সর্বজ্ঞ


দেশে নারী স্নাতকদের মধ্যে এখনো বীমা খাতে ক্যারিয়ার শুরুর পরিকল্পনা খুব একটা দেখা যায় না। আপনি সেই আশির দশকেই বীমার সঙ্গেকীভাবে যুক্ত হলেন?


ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৪ সালে আমি থিংক ট্যাংক বিআইডিএসে ক্যারিয়ারশুরু করেছিলাম। এক-দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রথমবার মা হওয়ার জন্য আমাকে কাজছেড়ে দিতে হয়। প্রায় তিন বছর বিরতির পর বিভিন্ন জব সার্কুলার দেখে আবারো আবেদনকরতে শুরু করি। ১৯৮৮ সালে পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ফ্রেশার হিসেবে যোগ দিই।সেখানেই নন-লাইফ বীমায় আমার ক্যারিয়ারের শুরু।


১৯৯৩সালে আমি পিপলস থেকে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে চলে যাই। ২০১১ সালে প্রাইমইন্স্যুরেন্সে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আসি। ২০১৪ সালের মার্চে বোর্ডআমাকে এমডির দায়িত্ব দেয়।


বীমায়তিন দশকের ক্যারিয়ারে ডেস্ক ওয়ার্ক, ফাইল প্রসেসিং, ক্লেইম সেটলমেন্ট, নতুন ব্যবসাখোঁজা সব কিছুই করেছি। গ্রীন ডেল্টায় ব্রাঞ্চ কন্ট্রোল ও ক্লেইমটা আমিই দেখছিলাম।এখন তো সব বিভাগের কাজই দেখতে হয়।


 


প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কেমন চলছে?


এককথায় বললে, ভালো চলছে। এখানে আমরা বীমা পণ্য, সেবা, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ চর্চাপ্রতিটি ক্ষেত্রেই মানের দিকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। বীমা ব্যবসায় নৈতিকতার প্রশ্নেওআমরা আপসহীন। গ্রাহকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।


গতবছর প্রাইমের ব্যবসা প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশ। ২০১১ সালে আমি যখন কোম্পানিতে জয়েনকরি, তখন টার্নওভারের দিক থেকে কোম্পানিটির অবস্থান ছিল ৩৮ নম্বরে। পরের বছরইশীর্ষ দশে চলে আসে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।


আমাদেরলোকবল মাত্র ১৪৩ জন। এই অল্পসংখ্যক মানুষের টিমই গত বছর ৬৭ কোটি টাকা গ্রসপ্রিমিয়াম আয় করেছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাকরছি। আমরা গত বছর ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছি। ২০১৬ সালে ১৩ শতাংশ ও ২০১৫ সালেসাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছি।


মার্কেটিংয়েঅতিরিক্ত জনবল বা অতিরিক্ত কমিশনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রাইমইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা এগোচ্ছে। এর মূল কারণ, দেশে অনেক গ্রাহকের কাছে ভালো বীমা সুবিধাআর আন্তরিক সেবার মূল্য আছে।


 


আপনার কোম্পানির আয়ের প্রধান উৎসগুলো সম্পর্কে জানাবেন...


আন্ডাররাইটিং প্রিমিয়াম ইনকামই আমাদের মূল ব্যবসা। এটিই কোম্পানির আয়ের প্রধান উৎস।বেসরকারি খাতের অনেক পাওয়ার প্লান্টের বীমা আমরা করছি। নিয়ম অনুযায়ী আমরা ৫০ শতাংশরিইন্স্যুরেন্স রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা করপোরেশনে (এসবিসি) করি। বাকি ৫০ শতাংশঝুঁকি বিদেশে বিভিন্ন পুনঃবীমা কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করি। মানসম্পন্ন ব্যবসা ওসঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশী রিইন্স্যুরারদের কাছ থেকে আমরা বেশ ভালোকমিশন পাই।


এছাড়াবিভিন্ন ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেও আমাদের কিছু আয় হয়।সম্প্রতি আমরা বন্ডের ট্রাস্টি লাইসেন্স পেয়েছি। এটাও আমাদের আয়ের একটি উৎস হতেযাচ্ছে।


 


পুনঃবীমার ৫০ শতাংশ এসবিসিতে করার বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নন-লাইফ কোম্পানিগুলোর দ্বিমত আছে বলে শুনি। আপনি কী মনে করেন?


দেশেরআইন অনুযায়ী প্রতিটি সাধারণ বীমা কোম্পানিকে তাদের মোট ঝুঁকির ৫০ শতাংশ এসবিসিতেপুনঃবীমা করতে হয়। এটা বাধ্যতামূলক। আর বাকি ৫০ শতাংশ চাইলে সে বিদেশে করতে পারে।এখানে আরো শিথিলতা আনার সুযোগ আছে। আমি মনে করি, বেটার সুবিধার জন্য কোনো কোম্পানিচাইলে অন্য রিইন্স্যুরারদের কাছে আরো বেশি ঝুঁকি শেয়ার করতে পারে।


ভারতেরনন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো নিয়ম অনুযায়ী তাদের মোট ব্যবসার মাত্র ৫ শতাংশ সেখানকারসরকারি প্রতিষ্ঠানে করতে বাধ্য। বাকিটা তারা বিশ্বের নানা প্রান্তেররিইন্স্যুরারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। এতে তাদের ব্যবসায় গতিশীলতা আসে, নতুননতুন পণ্য চালুর সুযোগ বাড়ে, প্রতিযোগিতামূলক প্রেক্ষাপটে মুনাফা মার্জিন বাড়ানোরওএকটি সুযোগ থাকে।


বিদেশেআমরা অনেক রিইন্স্যুরারের সঙ্গেই কাজ করছি। তাদের সবাই ‘এ’ ক্যাটাগরিররিইন্স্যুরার। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোনো প্রতিষ্ঠানে আমরা পুনঃবীমার জন্য যাই না।বিভিন্ন সময়ে বীমা দাবি পরিশোধ করতে গিয়ে আমরা এর সুফলটুকু টের পেয়েছি।


আমারমনে হয়, দেশের রিইন্স্যুরেন্স মার্কেটটাকে আরো ফ্রি করা দেয়া উচিত। কেউ যদি বীমাঝুঁকির ৫০ শতাংশ এসবিসিতে পুনঃবীমা করতে চায় সে করবে, আর কেউ যদি মনে করে আরো কমকরবে, তার জন্যও সুযোগ রাখা উচিত। এতে বীমা কোম্পানি, এসবিসি সবার মধ্যেই গতিশীলতাআসবে।


একটিবিতর্ক আছে, বিদেশে রিইন্স্যুরেন্স প্রক্রিয়ায় মোটা অংকের টাকা প্রিমিয়াম বাবদদেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। এটিও ভুল না। তবে সার্বিক বিবেচনায় এর সুফলগুলোও কমনা।


 


আমরা যতটুকু জানিআপনি বীমা খাতে কিছু নতুন নতুন প্রডাক্ট যোগ করার চেষ্টা করেন। এগুলোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?


ঠিকইশুনেছেন। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী নতুন প্রডাক্ট নিয়ে আসার চেষ্টা আমরা করি। যেমন,আমরাই প্রথম শুরু করেছি শিপ বিল্ডার্স লাইবেলিটি বীমা। নতুন এ পলিসির মাধ্যমেজাহাজ তৈরির আগ পর্যন্ত নির্মাতার যে ঝুঁকি থাকে, সেটা আমরা কাভার করছি।


আমাদেরনতুন প্রডাক্টের মধ্যে আরো রয়েছে হজ বীমা। একজন ব্যক্তি হজের সময়টায় সৌদি আরবেথাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। অন্য যেকোনো দুর্ঘটনারও শিকার হতেপারেন। এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হলে গ্রাহককে ১৩ হাজার ৫০০ ডলারের বীমা দাবিপরিশোধ করবে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স। হজে যাওয়ার আগে তাকে নামমাত্র একটি প্রিমিয়ামদিতে হয়। আমরা পুরো ঝুঁকিটা রিইন্স্যুরারের কাছে ট্রান্সফার করে দিই।


হজবীমার আওতায় গ্রাহককে পূর্ণাঙ্গ সুবিধা দেয়ার জন্য সৌদি আরবে আমাদের কিছু অংশীদারপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের হটলাইনে যোগাযোগ করলে আমাদের গ্রাহকদের হাসপাতাল থেকেশুরু করে আনুষঙ্গিক সব সুবিধা দিতে প্রস্তুত প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহক হজে গিয়ে মারাগেলে আমরা দেশে তার নমিনিকে বীমার টাকা পরিশোধ করে দেব।


দুঃখজনকবিষয় কি জানেন? মাত্র ৫০০ মানুষ আমাদের এ ইউনিক পলিসিটির গ্রাহক হয়েছেন। গ্রাহকরাএর সুুবিধা সম্পর্কে এখনো যথেষ্ট সচেতন নন। অথচ কয়েক লাখ লোক প্রতি বছর হজেযাচ্ছেন। তাদের জন্য এটি কত বড় সুবিধা, সেটি আমি নিজে হজে গিয়ে উপলব্ধি করেছি। কতবৃদ্ধ মানুষ হজে যাচ্ছেন, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন,অনেকে মারাও যাচ্ছেন।


বীমারসুফল সম্পর্কে সবাইকে জানাতে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স থেকে আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করেযাচ্ছি। তবে এগুলোয় সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। সরকার, ইন্ডাস্ট্রি সবাই মিলে উদ্যোগনিয়ে বীমা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীমাকাভারেজ বাধ্যতামূলক করে দিয়েও বীমার প্রসার বাড়াতে পারে। যেমনটি করা হয় মোটরযানেরথার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে। হাজিদের ক্ষেত্রেও করা যেতে পারে। শ্রমিকবা ছাত্র কিংবা পেশাজীবী হিসেবে প্রবাস গমনের সময়ও করা যেতে পারে।


একসময়দেখবেন, দু-এক হাজার টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে এত সাপোর্ট কোনো মানুষই হাতছাড়া করতেচাইবে না। আমাদের নতুন পলিসির তালিকায় ট্রিপল বি (ব্যাংকার্স ব্ল্যাংকেট বন্ডকাভারেজ) ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সও রয়েছে।


পরীক্ষামূলকভাবেআমরা একসময় বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্রেরও বীমা কাভারেজ চালু করেছিলাম। ছোট ছোটঅংকের এ বীমার সঙ্গে খুব বেশি খুঁটিনাটি থাকায় এর প্রক্রিয়াগত ঝামেলা তুলনামূলকবেশি ছিল। আমরা একপর্যায়ে এ পণ্যটির বিপণন থেকে পিছিয়ে আসি।


তবেএটুকু নিশ্চিত, বীমাকারী ও গ্রাহকের মধ্যকার চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের নীতিসুপ্রতিষ্ঠিত হলে এমন শত শত বিষয়ে আমাদের সমাজের মানুষও বীমার সুবিধা পাবে।


প্রক্রিয়াগতঝামেলা যত কমানো যায়, বীমা তত সহজ ও জনপ্রিয় হবে। বীমা সেবাগুলোকে যথাসম্ভবডিজিটাল করে ফেলার চেষ্টা করছি আমরা। খুব শিগগির আমাদের কোম্পানিতে অনলাইনে মোটরসার্টিফিকেট ও ওভারসিজ মেডি ক্লেইম পলিসি করা যাবে। মোটরসাইকেলের থার্ড পার্টিইন্স্যুরেন্স পেপারের বদলে আমরা একটি স্মার্টকার্ড চালু করব। এটি রাস্তায় বহন করাসহজ হবে।


 


স্বাস্থ্য বীমা উন্নত বিশ্বে মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমাদের এখানে এর প্রচলন নেই বললেই চলে...


এখানেযতটুকু হচ্ছে, তার প্রায় সবটাই করপোরেট কাভারেজ। এটিও ভালো। তবে ব্যক্তি, পরিবারওনিজেদের স্বাস্থ্য বীমার কথা ভাবতে পারেন। অনেকে শুরু করেছেন। এজন্য স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা ব্যাপক করতে হবে। সমাজে সচেতনতা বাড়াতেও অনেক কাজ করতে হবে।


স্বাস্থ্যবীমায় গ্রাহক হসপিটালাইজড হলে খুব কম সময়ের মধ্যেই আমরা তাদের বীমা দাবি পরিশোধকরি। এ বীমায় আমরা জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি। করপোরেটদেরপাশাপাশি আমরা তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শিল্পের শ্রমিকদেরও এ সুবিধার আওতায় আনতেচাই।


হেলথইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়ামটা গ্রাহকের বয়স অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। প্রাইমইন্স্যুরেন্স থেকে দাবি পরিশোধ করা হয় সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে।


নতুনপণ্য হওয়ায় স্বাস্থ্য বীমায় আমরা কোটা পদ্ধতিতে চলে গেছি। ২০ শতাংশ দাবি প্রাইমইন্স্যুরেন্স পরিশোধ করে আর বাকি ৮০ শতাংশ দাবি পরিশোধ করে আমাদের বিদেশীপার্টনাররা। স্বাস্থ্য বীমার উন্নয়ন ও প্রসারে আমরা ইউএনডিপির সঙ্গে যৌথভাবে কাজকরতে আলোচনা শুরু করেছি। কীভাবে গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য বীমা ছড়িয়ে দেয়া যায়, তানিয়ে কথাবার্তা চলছে। আমি মতামত দিয়েছি, সব এলাকার সু্কলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করাযেতে পারে, যেখান থেকে পরিবারগুলোর কাছে মেসেজ যাবে। এছাড়া ব্র্যাক বা পিকেএসএফেরমতো এনজিওগুলোর সঙ্গেও স্বাস্থ্য বীমা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করা যেতে পারে।


চিকিৎসারব্যয় নির্বাহে এ দেশে বহু পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়। স্বাস্থ্য বীমা তাদেরজন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।


 


আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে জরুরি ভিত্তিতে কোন ধরনের বীমা পলিসি চালু করা প্রয়োজন বলে আপনি মনেকরেন?


দেখুন,ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপালের অর্থনীতি আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে।এর নেপথ্যে বীমা খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।


আমরাওকিন্তু ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছি। এজন্য বীমা কাভারেজ রয়েছে। তবে প্রিমিয়াম রেটকিছুটা বেশি। এটি কমিয়ে সবার জন্য পলিসিটি বাধ্যতামূলক করা দরকার। আমি বীমা উন্নয়নও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি তুলে ধরেছি। এছাড়া প্রতিবছর বন্যাসহ নানা ধরনের প্রাকতিক দুর্যোগে সরকারি-বেসরকারি অনেক অবকাঠামোক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। প্রাণহানি ঘটছে। এসব থেকেসুরক্ষার জন্যও কিন্তু বীমা পলিসি আছে, নতুন নতুন প্রডাক্ট আসতে পারে। সমাজ ওইন্ডাস্ট্রিতে এসবের প্রসার বাড়াতে হবে।


সরকারেরনীতিনির্ধারণী মহল থেকে বীমার উন্নয়নে আরো বেশি পদক্ষেপ আসা উচিত বলে আমি মনে করি।


 


জীবন বীমা  সাধারণ বীমা মিলিয়ে ৭৭টি কোম্পানি রয়েছে। নতুন আরো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন কি?


জীবনবীমার ক্ষেত্রে বলতে পারব না। তবে আর কোনো সাধারণ বীমা কোম্পানির প্রয়োজন নেই। আমিদেখছি, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে, যারা বীমার গ্রাহকবাড়াতে ও বীমার প্রসারে যথেষ্ট অবদান রাখছে না। আয়ের গতানুগতিক কিছু উৎসেই আটকেথাকছে তারা।


 


বীমা খাতে সিনিয়র প্রফেশনালের ঘাটতি আছে বলে শুনি...


যোগ্যনির্বাহীর অভাব খাতটিতে শুরু থেকেই। বীমায় মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের আকৃষ্ট করতেহবে।


প্রাইমইন্স্যুরেন্স তরুণ-শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতাওদেয়া হচ্ছে। আমি মনে করি, অন্য কোম্পানিগুলোরও নতুনদের সুযোগ দেয়া উচিত। তাদেরযোগ্য সম্মানীও দিতে হবে। না হলে তরুণ প্রজন্ম এ খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। ব্যাংকও বীমা পাশাপাশি দুটি খাত। ব্যাংকিং খাতের প্রতি তরুণদের আগ্রহ থাকলেও বীমা খাতেরপ্রতি তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।


আমিবলতে পারি, মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত কেউ যদি কম বয়সে সিইওর মতো অবস্থানে যেতে চান,তিনি বীমা খাতে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে তিনি ব্যাংকেরচেয়ে দ্রুত পদোন্নতি পাবেন।


প্রিমিয়াম আয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন  ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করতে পারবে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো।  হার নির্ধারণ করে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা২০১৮-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বীমা উন্নয়ন ওনিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। শিগগিরই এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে। নতুন  বিধিমালা নিয়ে আপনার মতামত?


বীমাকোম্পানিগুলোর অনেক দিনের দাবি ব্যয়সীমা বাড়ানো। বর্তমানে যেভাবে খরচ বেড়েছে তাতে১৯৫৮ সালের বিধিমালায় নির্ধারিত ব্যয়সীমা অবাস্তব বলেই মনে হচ্ছিল। নতুন বিধিমালায়খরচের সীমা বাড়ানো হলে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ভালো হবে। এখন যে খরচটা সীমাঅতিক্রম করে যাচ্ছে, নতুন বিধি কার্যকর হলে তা হবে না। কোম্পানিগুলো তাদের সীমারমধ্যেই থাকতে পারবে।


 


দেশের বীমা খাতে নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে...


প্রাইমইন্স্যুরেন্স ছাড়াও গ্রীন ডেল্টা ও ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহীকর্মকর্তারা নারী। আমাদের প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর মধ্যে ১৯ শতাংশই ছিলেন নারী।তবে এখন তা ১৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা দেখেছি যে, শুধু সন্তান লালন-পালনেরজন্যই নারী কর্মীরা একসময় এসে চাকরি ছেড়ে দেন। এটা সত্যিই দুঃখজনক।


প্রাইমইন্স্যুরেন্সে আমরা ডে কেয়ার চালুর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। তবে ইন্ডাস্ট্রিতেঅনেকে মিলে একটি বড় উদ্যোগ নিলে এটি তুলনামূলক সহজ ও ফলপ্রসূ হবে।


আমাদেরকোম্পানির বিভিন্ন পদে অনেক নারী কর্মী আছেন, যারা পুরুষদের চেয়েও ভালো করছেন। তাইসবার উচিত, মেধা ও দক্ষতা প্রমাণে তাদের সহযোগিতা করা। এটি না করাটা অন্যায্য।কথাটি শুধু বীমা খাতেই নয়, সব ইন্ডাস্ট্রিতেই সমানভাবে প্রযোজ্য। উদ্যোক্তারা এবিষয়টিতে নজর দিলে শুধু তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্যই ভালো হবে, তা না। সমাজ ওঅর্থনীতিও উপকৃত হবে। আমার আশা, অন্তত নারী উদ্যোক্তারা এ ব্যাপারে সিরিয়াসলিভাববেন।


লিংক:

http://bonikbarta.net/bangla/magazine-post/1910/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE/